পর্যটন নগরী কক্সবাজারের জননিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মূলোৎপাটনে পুলিশ এক বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে জেলা শহরের বিভিন্ন নির্জন ও ব্যস্ত সড়কে সাধারণ পথচারী এবং পর্যটকদের অস্ত্রাঘাতের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার মতো অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কঠোর দমনপীড়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় কক্সবাজার সদর মডেল থানা-পুলিশের একটি দল শহরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর অপরাধপ্রবণ পয়েন্টে আকস্মিক হানা দিয়ে ৩৬ জন দুষ্কৃতকারীকে গ্রেপ্তার করে। এসময় আটক আসামিদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য এবং অবৈধ মাদক বিক্রয়লব্ধ বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।

ছিনতাই ও চুরির অপরাধে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. মবিন (২৭), মো. রবিউল করিম (২৮) ও মো. সাইফুল (২৪), রবিউল আলম (২৪), মংতু (৫৬), মংচ্যাখ্যা রাখাইন (৪৮), উ সাই (৫০), মাংচে মে (৫২), খুইল্যা মিয়া (৪৫), খোরশেদ আলম (৩৫), সজল কান্তি শীল (৩৭), প্রদীপ সরকার (৫৪), বীর বল দাশ (৩৮), ছোটন কান্তি দে (২৭), সুজন দে (২৫), রাজীব দে (৩৩), বিজয় কর্মকার (১৯), জুনাইদ (২৫) এবং শেফাইয়ত উল্লাহ (২৬), গোলাম হোসেন (৬২), নজিবুল ইসলাম (৬৯), মেছাং রাখাইন (৫৪), মো. রফিক (১৯), নাইমুল ইসলাম হৃদয় (১৯), রায়হান (২২), মিজান (২০), মো. হাসান (১৯), মীর কাশেম প্রকাশ লুলা মিয়া (৬৫), সুধাংশু কর্মকার (৬০), অস্তয়ন কান্তি দে (৩০), মাছয়ইয়া (২৩) এবং মো. শহিদ (২৮), প্রসেনজিৎ শীল (২৪), গোবিন্দ শীল (৩৫) ও মো. আব্দুর শুকুর (২৪) মো. ফজল করিম (২২)।

এদিকে, পুলিশি তল্লাশিতে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ২০০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ, ২৪টি ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির নগদ ৩২ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, চুরি, দস্যুতা ও মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ সবসময় সক্রিয় রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য ধারায় মামলা দায়ের করে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।