দেশে হামের সংক্রমণ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে টিকা নেওয়ার পরও কিছু শিশুর আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক এক সরকারি জরিপে দেখা গেছে, পূর্ণ টিকাদান সম্পন্ন করার পরও একটি অংশের শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে—যা বিশেষজ্ঞদের নতুন করে কারণ অনুসন্ধানের আহ্বান জানাতে বাধ্য করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন জাতীয় ইপিআই সার্ভিল্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ২,৩১০ শিশুর ওপর চালানো বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ আক্রান্ত শিশু টিকা না নিলেও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আংশিক বা পূর্ণ টিকাদান সম্পন্ন করেছিল। নিশ্চিত আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ১১ শতাংশ শিশু দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও সংক্রমিত হয়েছে, আর এক ডোজ নেওয়ার পর আক্রান্তের হার প্রায় ১৭ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সরাসরি টিকার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে না; বরং টিকা প্রয়োগের সময়, সংরক্ষণ পদ্ধতি, শিশুর পুষ্টিগত অবস্থা এবং সামগ্রিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা—সবকিছুই একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ৯ মাসের নিচের শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক, কারণ এ বয়সে সাধারণত মায়ের শরীর থেকে প্রাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শিশুকে সুরক্ষা দেয়।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, বর্তমানে সেই প্রাকৃতিক সুরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়ার ইঙ্গিত মিলছে। ফলে মাতৃস্বাস্থ্যের ওপর নতুন করে গবেষণা এবং প্রয়োজনে বিয়ের আগে নারীদের বুস্টার ডোজ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, টিকাদান কভারেজের তথ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ কভারেজ দেখানো হলেও বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে প্রকৃত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে টিকাদানের বয়স ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস করেছে এবং বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল টিকাদান নয়—স্বাস্থ্যব্যবস্থার সামগ্রিক সক্ষমতা, হাসপাতালের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়ন—সবকিছুর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।