ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণের আগে নিউইয়র্কে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ থেকে অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন, এমি পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডারসহ প্রায় ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ থেকে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে নিউইয়র্ক পুলিশের তথ্যের বরাতে পরবর্তী প্রতিবেদনে গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রায় ১০০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সারান্ডন ও আইনবাইন্ডার ছাড়াও ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেসপ্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসের নাম রয়েছে।

Advertisement

বিক্ষোভটি আয়োজন করে ইহুদি অধিকার সংগঠন জিউইশ ভয়েস ফর পিস। আয়োজকদের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে স্লোগান দেওয়া হয় এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানো হয়। রয়টার্সের ছবির প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সারান্ডনও ছিলেন এবং পরে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। পুলিশ তাঁদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে কয়েকজন সরে যান; অন্যরা রাস্তায় অবস্থান অব্যাহত রাখেন। পরে পুলিশ তাঁদের আটক করে।

বিক্ষোভের পাশাপাশি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও নেতানিয়াহুর ভাষণকে ঘিরে দৃশ্যমান প্রতিবাদ হয়। বৃহস্পতিবার তিনি ভাষণ শুরু করার সময় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক ডজন প্রতিনিধি এই ওয়াকআউটে অংশ নেন।

নেতানিয়াহু তাঁর ভাষণে গাজা যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের সমালোচনা মোকাবিলার চেষ্টা করেন তিনি। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটেও আন্তর্জাতিক সমালোচনা তাঁর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।

এদিকে বিক্ষোভকারীদের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানিজেহ মোরাদিয়ান বলেন, গাজায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কথা বলা তাঁদের দায়িত্ব। তিনি নেতানিয়াহুর জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহারেরও সমালোচনা করেন।

জাতিসংঘের বাইরে বিক্ষোভ এবং সাধারণ পরিষদের ভেতরে প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট—দুই ঘটনাই নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কের ব্যাপকতার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ এবং নেতানিয়াহুর সরকারের বক্তব্যকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।