“পর্যটনে সমৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতায় কক্সবাজার” এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বসছে তিন দিনের বর্ণাঢ্য পর্যটন মেলা। সমুদ্রের নীল জলরাশি, দীর্ঘ সৈকত আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির আবহে আগামী ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাবণী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে চলবে এ আয়োজন। পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন সৈকত, পর্যটকদের নিরাপত্তা, পরিবেশ সচেতনতা এবং স্থানীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে সামনে আনাই এবারের আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় থাকছে সৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পর্যটন মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ সংগীত, ফায়ার শো, ব্যান্ড শো, র‍্যালি, ঘুড়ি উৎসব, লাইফগার্ডের জরুরি সেবা ও ফার্স্ট এইড প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন।

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় সমুদ্রসৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মেলার আনুষ্ঠানিকতা। সকাল ১০টায় পর্যটন মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হবে। বিকেলে থাকবে লোকজ সংগীত, ফায়ার শো ও ব্যান্ড শো।

দ্বিতীয় দিন ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে আবারও সৈকত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম । বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে সৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযান। এরপর বিকেলের আয়োজনে থাকবে সূফি ও কাওয়ালি গান, ফোক গান এবং ডুয়েট গান।

বিশ্ব পর্যটন দিবসের দিন ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার। এদিন সকাল ৯টায় সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত বের হবে বর্ণাঢ্য র‍্যালি। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব পর্যটন দিবসের গুরুত্ব ও কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা সভা। বিকেল ৩টায় হবে ঘুড়ি উৎসব। বিকেল ৪টায় পর্যটকদের নিরাপত্তায় সি-সেফ লাইফগার্ডের জরুরি সেবা ও ফার্স্ট এইড কার্যক্রমের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। বিকেলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

এছাড়াও থাকবে রাখাইন নৃত্য, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চাকমা, ম্রো ও রাখাইন নৃগোষ্ঠীর নৃত্য পরিবেশনা।

জেলা প্রশাসনের সুত্র জানায় , কক্সবাজারের পর্যটন শুধু সমুদ্র সৈকতকেন্দ্রিক নয়; এখানকার প্রকৃতি, সংস্কৃতি, নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও স্থানীয় জীবনযাত্রাও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই বিশ্ব পর্যটন দিবসের এবারের আয়োজনে বিনোদনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশ্ব পর্যটন দিবসের এ আয়োজনের মাধ্যমে পর্যটন সম্ভাবনার পাশাপাশি পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় সংস্কৃতির বিষয়গুলোও তুলে ধরা হচ্ছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, তিন দিনের এ মেলা কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের জন্য বাড়তি বিনোদনের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন উদ্যম সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন সৈকত, নিরাপদ পর্যটন এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়াবে।

জাবেদ আবেদীন শাহীন কক্সবাজার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬