কক্সবাজারের টেকনাফে মিয়ানমার থেকে আসা একটি অবৈধ অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে গেছে।
সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের বড় ডেইল-কচ্ছপিয়া নৌঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও কোস্টগার্ড সূত্র জানিয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে নৌকাটি বাহারছড়া উপকূলে পৌঁছালে বড় ঢেউয়ের আঘাতে সেটি উল্টে ডুবে যায়।
বিভিন্ন তথ্যে জানা গেছে, নিহত নারীর নাম ছুরা খাতুন (২৮), তিনি রোহিঙ্গা নাগরিক তাঁর বিস্তারিত পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সঙ্গে তাঁর ৯ বছর বয়সী ছেলেও দুর্ঘটনায় মারা যায়।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী নিহত শিশুটির নাম হোসেন জোহার এবং তার মা লাল মতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুচিডং এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ চেষ্টায় ঘটনাস্থল থেকে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ১ জন শিশু ছিলেন। তবে এখনো একজন নারী নিখোঁজ রয়েছেন, বুধবার বিকেল পর্যন্তও তাঁর সন্ধান মেলেনি বলে জানা গেছে।
এদিকে, জীবিত উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি টেকনাফ, নাইক্ষ্যংছড়ি ও উখিয়ার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। বাকি ৮ জন রোহিঙ্গা, যাদের বেশিরভাগই টেকনাফ ও উখিয়ার শরণার্থীশিবিরের নিবন্ধিত বাসিন্দা।
সুত্র জানানয়, উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের প্রায় এক বছর আগে মালয়েশিয়া নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মিয়ানমারে পাচার করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের মালয়েশিয়া না পাঠিয়ে দীর্ঘ এক বছর মিয়ানমারের বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখা হয়। সোমবার রাতে অবশেষে নৌপথে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে তাঁদের নৌকায় তোলা হলেও তা টেকনাফ উপকূলেই ডুবে যায়।
এব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধার ১৬ জনকে থানায় হস্তান্তর করে তাঁদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধেও পৃথক তদন্ত চলছে। নিখোঁজ নারীর সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।