কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার মানুষের জানমাল রক্ষায় ৯৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রানালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ও আলী আকবর ডেইল ইউনিয়ন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী সাগরের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের বর্তমান অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেন। উপকূলীয় জনপদকে সাগরের জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেন।

মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, কুতুবদিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ কষ্টের কথা চিন্তা করে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের কারিগরি টিমের বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষে ইতিমধ্যে ৯৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্বাচনী ইশতিহার হচ্ছে, কুতুবদিয়ার আর কোনো মানুষের ঘরবাড়ি যেন সাগরের পানিতে তলিয়ে না যায়। আমরা ধাপে ধাপে পুরো দ্বীপের ৪০ কিলোমিটার বাঁধই সুরক্ষিত করব, যার প্রথম পর্যায়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘সুপার ডাইক’ ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে।

প্রকল্পের কারিগরি ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কক্সবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, কুতুবদিয়া পোল্ডার নং-৭১ এলাকায় ‘সুপার ডাইক নির্মাণসহ টেকসই পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের নকশা ও কারিগরি পরিকল্পনা ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনানুযায়ী, আসন্ন বর্ষা বা দুর্যোগ মৌসুমের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোর জরুরি সংস্কার সম্পন্ন করে মূল টেকসই বাঁধের কাজ দ্রুততম সময়ে শুরু করতে পারি।

পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এবং কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।