কক্সবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রীনিবাসের নিরাপদ আবাসনকে ঘিরে উঠেছে মাদক কারবারের গুরুতর অভিযোগ। কুরিয়ার সার্ভিসে আসা একটি পার্সেল থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শরিফা আক্তার (২২) নামে কলেজের এক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।

রোববার রাত ৮টার দিকে কলেজ প্রশাসনের সহায়তায় দোলনচাঁপা ছাত্রীনিবাসে অভিযান চালিয়ে ইয়াবার চালানটি উদ্ধার করা হয়।

আটক শরিফা আক্তার কক্সবাজার সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজের দোলনচাঁপা ছাত্রীনিবাসের ২০০৭ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তাঁর বাড়ি টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার আলী আকবরপাড়ায়। তিনি ওই এলাকার লিয়াকত আলীর মেয়ে।

কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) শরিফা আক্তার ছাত্রীনিবাস থেকে বাড়িতে যান। পরদিন তাঁর নামে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে একটি পার্সেল আসে ছাত্রীনিবাসে। শরিফার অনুরোধে অন্য এক ছাত্রী পার্সেলটি গ্রহণ করে তাঁর কক্ষের খাটের নিচে রেখে দেন।

ছাত্রীনিবাসের কক্ষ তদারকির সময় খাটের নিচে রাখা পার্সেলটি মেট্রনের নজরে আসে। পার্সেলটির বিষয়ে সন্দেহ হওয়ায় তিনি বিষয়টি ছাত্রীনিবাসের সুপারকে জানান। পরে শরিফা ছাত্রীনিবাসে ফিরে এলে তাঁকে পার্সেলটির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি জানানো হয় পুলিশকে।

পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পার্সেলটি খুলে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করে বলে জানানো হয়েছে।

কক্সবাজার সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ওহিদুল ইসলাম বলেন, পার্সেলটি শরিফার খাটের নিচে রাখা ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় শরিফা প্রথমে দাবি করেন, তাঁর এক আত্মীয় পার্সেলটি সেখানে রাখতে দিয়েছিলেন। তবে পার্সেলটি কোথা থেকে এসেছে, কার মাধ্যমে এসেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় শরিফা আক্তারকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে ওই শিক্ষার্থী এর আগেও কয়েকবার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে ২০ হাজার ইয়াবার এই বিপুল চালানের উৎস কোথায়, কুরিয়ার পার্সেলটি কে পাঠিয়েছে, কার নির্দেশে ছাত্রীনিবাসে পৌঁছানো হয়েছে এবং এর নেপথ্যে কোনো সংঘবদ্ধ মাদকচক্র রয়েছে কি না এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক এলাকায় এ ধরনের চালান পৌঁছানোর ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চ