প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনের ভৌগোলিক সীমানায় সদর উপজেলার সমৃদ্ধ জনপদ ভারুয়াখালী ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্তকরণের দাবিতে তীব্র গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরের তীব্র রোদ উপেক্ষা করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এক বিশাল গণসমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

আবালবৃদ্ধবনিতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উত্তাল হয়ে ওঠে ডিসি অফিস প্রাঙ্গণ। এ সময় আন্দোলনকারীদের গগনবিদারী স্লোগান, বিভিন্ন দাবি সংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডের সুশৃঙ্খল প্রদর্শনীর মাধ্যমে এলাকাটি এক অভূতপূর্ব প্রতিবাদী রূপ ধারণ করে।

উক্ত মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক ও যৌক্তিক বক্তব্য উপস্থাপন করেন জেলা আইনজীবী সমিতির জ্যেষ্ঠ (সিনিয়র) সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নেজামুল হক। তিনি তাঁর বক্তব্যে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে ভারুয়াখালীর সংযুক্তি আমাদের ঐতিহাসিক ও ন্যায্য অধিকার। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় কোনো এক অদৃশ্য কারণে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অন্যায়ভাবে এই উর্বর জনপদকে সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত এলাকা থেকে সুকৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীতকরণের সরকারি সিদ্ধান্তে আমরা যখন চরম আনন্দিত ছিলাম, ঠিক তখনই ভারুয়াখালীকে অবহেলা করার সংবাদে সমগ্র এলাকাবাসী চরম শঙ্কা, উদ্বেগ ও হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছে।

প্রশাসনিক বৈষম্যের প্রশ্ন উত্থাপন করে বক্তরা বলেন, রামু উপজেলার তুলনামূলক দুর্গম ও অনগ্রসর এলাকাকে যেখানে পৌর-সীমানায় অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে, সেখানে ভূ-প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিপুল সম্ভাবনাময়ী ভারুয়াখালী কেন আজ চরম উপেক্ষার শিকার।

তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই ন্যায়সঙ্গত অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কক্সবাজারের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের ওপর ভারুয়াখালীবাসী আস্থাশীল। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপামর জনতার এই দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণে তিনি আন্তরিক ও কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করবেন।

মাওলানা মো. সায়েমের সাবলীল সঞ্চালনায় এই ক্ষুব্ধ ও স্বতঃস্ফূর্ত মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য রাখেন প্রফেসর নাজিমউদ্দিন, অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল আলম, মাওলানা আব্দুল হাকিম সিদ্দিকী, এডভোকেট শওকত ওসমান, জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আবুল হোসাইন, দলিল লেখক মাহমুদুর রহমান, আলহাজ্ব মুস্তাফিজুর রহমান সিকদার, মো. ফজলুল হক মেম্বার, মাস্টার শেফা উদ্দিন, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, শ্রমিক নেতা সৈয়দ নূর, বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল, এডভোকেট রেবেকা সুলতানা, এডভোকেট আবু হেনা মোস্তফা কামাল, অধ্যাপক জহিরুল হক, ব্যাংকার মোহাম্মদ নূর, এনজিওকর্মী মো. আব্দুল্লাহ, এডভোকেট শাফায়েত, ইঞ্জিনিয়ার রমিজুর রহমান, হাফেজ আব্দুস শুকুর, শাহীন চৌধুরী প্রমুখ।

এদিকে, ভারুয়াখালীকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্তকরণের এই জোরালো আওয়াজ এখন আর কেবল কোনো দাবি নয়, বরং তা গণদাবিতে রূপান্তরিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনতিবিলম্বে মাঠপর্যায়ে এর যৌক্তিকতা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই জনপদকে সমৃদ্ধির সোপানে আসীন করবে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল ভূমিকায় অচিরেই এলাকাবাসীর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সর্বস্তরের জনগণ।