গবাদিপশুর জন্য ঘাস কাটার মেশিনে ডান হাত জড়িয়ে গুরুতর আহত হন মেহেরপুরের কৃষক রাফিউল ইসলাম। তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হলেও হাত বাঁচানোর আশায় তিনি চিকিৎসা নেন মেহেরপুর সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স (ব্রাদার) দেলোয়ার হোসেনের কাছে।
পরিবারের অভিযোগ, সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামে দেলোয়ার হোসেনের নিজ বাড়িতে রাফিউলের ক্ষতস্থানে সেলাই ও চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর কয়েকদিন ড্রেসিং করানোর পর একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিলেও রাফিউলের হাতের অবস্থার উন্নতি হয়নি। বর্তমানে হাত শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় পঙ্গুত্বের আশঙ্কা করছেন তিনি ও তার পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে ঘাস কাটার সময় অসাবধানতাবশত মেশিনে রাফিউলের ডান হাত আটকে যায়। এতে হাতটি মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়। আহত অবস্থায় তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
রাফিউলের পরিবারের দাবি, রক্তক্ষরণ বন্ধ করা এবং হাতটি বাঁচানোর জন্য তারা বিকল্প চিকিৎসার সন্ধান করছিলেন। এ সময় হাসপাতালের এক ব্যক্তির মাধ্যমে তারা দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তার পরামর্শে আমঝুপিতে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় রাফিউলকে।
রাফিউল বলেন, সেখানে দেলোয়ার হোসেন তার হাতের ক্ষতস্থানে সেলাই করে দেন এবং একটি প্রেসক্রিপশন দেন। এরপর একদিন পর পর ড্রেসিং করানো হয়। ওই চিকিৎসার জন্য তার কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শুরুতে হাত ভালো হওয়ার আশা থাকলেও কয়েক সপ্তাহ পর অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
রাফিউলের স্ত্রী আলেয়া খাতুনের দাবি, হাত ভালো করার আশায় বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে গিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করেছেন তারা। কিন্তু তার স্বামীর হাতের অবস্থার উন্নতি হয়নি।
ছেলে আসিফ হোসেন বলেন, দেলোয়ার হোসেনের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে তারা রাজশাহীসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিলেও হাতের অবস্থার উন্নতি হয়নি। বর্তমানে ধীরে ধীরে হাত শুকিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (অর্থোপেডিক) ডা. সউদ কবীর বলেন, এ ধরনের গুরুতর আঘাতে ক্ষতস্থানে সঠিক নিয়মে চিকিৎসা ও সেলাই না হলে স্নায়ু, রক্তনালি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে হাতের কার্যক্ষমতা স্থায়ীভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের আঘাতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
রাফিউলকে নিজ বাড়িতে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ক্যামেরা দেখে তিনি সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে অভিযোগ ও রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি তিনি।
রাফিউল ও তার পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করার পর একজন সরকারি নার্সের নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়ার পরই তার হাতের অবস্থার অবনতি হয়েছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তার হাতের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।