বড়বিলা বিলকে ঘিরে স্থানীয় পর্যটনের বিকাশ ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার। তিনি বলেন, বড়বিলা বিল শুধু একটি জলাশয় নয়, এটি এলাকার মানুষের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ। পরিকল্পিতভাবে কচুরিপানা অপসারণের মাধ্যমে বিলের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি এর প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগানো সম্ভব।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বড়বিলার পাড়ে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিভাগীয় কমিশনার।

তিনি বলেন, বড়বিলা বিলের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যটনের বিকাশ ঘটানোর সুযোগ রয়েছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে বড়বিলা বিলকে ঘিরে নতুন কর্মসংস্থান ও স্থানীয় মানুষের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, ‘বড়বিলা বিলের কচুরিপানাকে শুধু সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না। পরিকল্পিতভাবে কচুরিপানা অপসারণ করে একদিকে বিলের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’

অনুষ্ঠানে আদিবাসীদের উদ্দেশে মাদক ও পানীয় প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন বিভাগীয় কমিশনার। তিনি বলেন, আদিবাসীদের কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে পানীয় গ্রহণের প্রচলন রয়েছে। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি প্রশ্ন করেন, কোনো পণ্য বাজারে আসার ক্ষেত্রে ক্রেতার চাহিদার ভূমিকা কী। তাঁর বক্তব্য, কোনো পণ্য মানুষ না কিনলে তা বাজারে আসার সুযোগ কমে যায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তর ময়মনসিংহের বিভাগীয় পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ তাকী তাজওয়ার, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক এ কে এম শমসের আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বাদল ও আবুল ফজল। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন।

এর আগে বড়বিলায় উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্ত ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। দুপুরে বিভাগীয় কমিশনার শিবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। বিকেলে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সুবিধাবঞ্চিত নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।