মাদক অপরাধসংক্রান্ত মামলার বিচারিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা ত্রুটি-বিচ্যুতির সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন নোয়াখালীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাসান। তিনি বলেছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে বিচারিক প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে অধিকতর সংবেদনশীল ও সচেতন হতে হবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স-২০২৬-এ সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগ প্রণীত Criminal Rules and Orders-এর বিধি অনুসরণ করে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রবিউল হাসান সাকিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অ্যাডিশনাল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরজাহান বেগম, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফসানা ইসলাম রুমি, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হামিদুল ইসলাম, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াজ উদ্দিন, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাসমিনা ইয়াসমিন, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল হক ছিদ্দিকী ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আতিক উল্যাহ।
এ ছাড়া সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল বারেক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) বক্তব্য দেন।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ হাসান বলেন, এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থার ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহযোগিতামূলক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে মাদকের বিস্তার রোধ করা এবং মাদকসংক্রান্ত মামলার বিচারিক প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করা সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব। মাদক অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা ত্রুটি-বিচ্যুতির অবকাশ নেই।
চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, জামিনে বের হওয়ার পর কোনো কোনো আসামি পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনা দেখা যায়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। মামলার তদন্তের মানোন্নয়ন, যথাসময়ে আলামত আদালতে উপস্থাপন এবং সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে হবে।
তিনি বলেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মাদকমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে বিচার ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব করে জনগণের দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
সম্মেলনে নোয়াখালী জেলায় বিচারাধীন মামলাগুলোর বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিতকরণ এবং মামলার সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল আলম জানান, সম্মেলনে ফৌজদারি বিচার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া যথাসময়ে আইনানুগভাবে প্রদত্ত মেডিকেল সার্টিফিকেট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ফরেনসিক রিপোর্ট ও ভিসেরা রিপোর্ট আদালতে নিশ্চিত করা, বিচারাধীন মামলায় সমন, ওয়ারেন্ট, হুলিয়া ও ক্রোকি পরোয়ানা দ্রুত জারির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূর করার উপায়, যথাসময়ে সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা এবং আদালতে আসা-যাওয়ার সময় সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
অনুসন্ধান ও তদন্তের ক্ষেত্রে শৈথিল্য দূর করা এবং প্রত্যেকের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে ফৌজদারি বিচার কার্যক্রম দ্রুততর করার বিষয়েও সম্মেলনে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক শ্রী সুমন চন্দ্র বণিক, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. শাহাদাত হোসেন, নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ বি এম জাকারিয়া, অ্যাডিশনাল পিপি মো. আবদুল কাইয়ুম, অ্যাডিশনাল পিপি আহসানুল কবির কামাল, উপকূলীয় বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মোস্তফা আল হোসাইন, বিএসটিআই নোয়াখালীর ঊর্ধ্বতন পরীক্ষক প্রকৌশলী মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান এবং জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জরা।