নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলা সদরের খেলার মাঠে প্রায় দেড় মাস ধরে চলা একটি মেলা ও এর সঙ্গে লটারির টিকিট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মেলার প্রবেশমূল্যের সঙ্গে লটারির টিকিট বিক্রি করা হয়েছে এবং মেলার শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন যানবাহনে করে উপজেলার বাইরে নওগাঁর অন্যান্য এলাকায়ও টিকিট বিক্রি করা হয়।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মেলার শেষ সাত দিনে ট্রাক, সিএনজি, অটোরিকশা ও ভুটভুটিসহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি যানবাহনের মাধ্যমে নওগাঁ সদর ছাড়া জেলার অন্যান্য উপজেলায় লটারির টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। তাদের দাবি, এসব টিকিট বিক্রি থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে টিকিটের মোট সংখ্যা বা বিক্রির পরিমাণের স্বাধীন কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, মেলার শেষ দিনে লটারির ড্র আয়োজন করা হলেও এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ‘রাজশাহী সিল্ক অ্যান্ড বেনারসি জামদানি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মেলাটি পরিচালিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

এর আগে নওগাঁয় একই নামে একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে মেলা আয়োজন নিয়ে অনুমতি-সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠেছিল। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে রাজশাহী সিল্ক অ্যান্ড বেনারসি জামদানি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির উদ্যোগে মেলা আয়োজন এবং জেলা প্রশাসনের অনুমতির বিষয়টি আলোচনায় আসে। একটি প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হিসেবে রহিদুল ইসলামের নামও উল্লেখ করা হয়েছিল।

স্থানীয় অভিযোগকারীদের দাবি, মেলা ও লটারির কার্যক্রমের অনুমোদন, টিকিট বিক্রির হিসাব, লটারির ড্র এবং পুরস্কার বিতরণ—সবকিছুই প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

তবে বর্তমান মেলায় লটারির নামে প্রতারণা হয়েছে কি না, কত টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে এবং লটারির ড্রয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসন ও পত্নীতলা উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য জানা গেলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে। একইভাবে মেলা আয়োজক পক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, জনসাধারণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো লটারি বা মেলার কার্যক্রম অনুমোদিত নিয়মের বাইরে পরিচালিত হয়ে থাকলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।