ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের প্রধান সড়কে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একাংশের ঝটিকা মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয় বলে একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। পরে দুপুরের দিকে মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শহরে আলোচনা শুরু হয়।
প্রকাশিত ভিডিও ও বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. সানি শাহের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী শহরের কাজীপাড়া এলাকা থেকে মিছিল বের করেন। মিছিলটি টিএ রোড, থানা ব্রিজ ও মঠের গোড়া এলাকার সড়ক প্রদক্ষিণ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে অর্ধশতাধিক থেকে প্রায় ৩০-৪০ জনের কথা বলা হয়েছে।
মিছিলে শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত একটি ব্যানার বহন করতে দেখা যায়। ব্যানারে ‘প্রত্যাবর্তন ২.০—শেখ হাসিনা আসছে’ এবং ‘ডেডলাইন নভেম্বর, ডেডলাইন ডিসেম্বর’ লেখা ছিল বলে প্রকাশিত ভিডিওভিত্তিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিছিল শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সানি শাহ বক্তব্য দেন। তিনি শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে ছাত্রদলের রাজনীতির সমালোচনা করে ছাত্রলীগ ‘ফুল ও ভালোবাসা’ দিয়ে রাজপথে অবস্থান নেওয়ার কথা বলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হয়েছে।
এদিকে মিছিলটি সদর মডেল থানার কাছাকাছি এলাকা দিয়ে হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেছেন, থানার সামনে এ ধরনের মিছিল করার সুযোগ নেই এবং ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিভিন্ন স্থানের বিচ্ছিন্ন ফুটেজ থাকতে পারে। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এম এম রাকীব উর রাজাও জানিয়েছেন, ভিডিওটি নতুন নাকি পুরোনো তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি; আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ভিত্তিতে মিছিলের স্থান, সময় ও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি নিয়ে যেসব দাবি উঠেছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ সত্যতা পুলিশের যাচাই শেষে আরও স্পষ্ট হবে।
