গ্যাস সংকটে প্রায় ১৮ মাস ধরে বন্ধ থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (এএফসিসিএল) দ্রুত সচলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে কারখানাটির নাম পরিবর্তন করে ‘আশুগঞ্জ জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ করার পাশাপাশি আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় এ মানববন্ধনের আয়োজন করে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১৫০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত বছরের ১ মার্চ থেকে কারখানাটিতে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও এর প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সোমবার সকালে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্যরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্রচারপত্র নিয়ে টোলপ্লাজা এলাকায় জড়ো হন। মানববন্ধনে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, শ্রমিক দল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করেন।

শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সার কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু কাউসার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদী মো. তানভীর রহমান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শাহজাহান ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোয়াব আলী মুন্সী, উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুহেল পারভেজ, এনসিপির কেন্দ্রীয় নারী শক্তির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জয়ন্তী বিশ্বাসসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

বক্তারা বলেন, আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদিত ইউরিয়ার গুণগত মান ভালো হওয়ায় কৃষকদের কাছে এর চাহিদা রয়েছে। তাঁদের দাবি, কারখানাটি নিয়মিত উৎপাদনে রাখতে পারলে দেশে সার উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি সরকারের অর্থ সাশ্রয় হবে।

দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে কারখানাটি উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। তবে বিদেশ থেকে সার আমদানি ও কমিশন বাণিজ্যসংক্রান্ত বক্তাদের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে ইউরিয়া উৎপাদন পুনরায় চালুর দাবি জানান। একই সঙ্গে বিদ্যমান কারখানাটিকে গ্যাস সাশ্রয়ী ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়ন অথবা বিকল্প হিসেবে নতুন কারখানা স্থাপনের দাবি তোলেন।

তাঁদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে কারখানার যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোর পাশাপাশি শ্রমিক-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে আশুগঞ্জ সার কারখানাকে উৎপাদনে ফেরানোর দাবি জানান তাঁরা।