জামালপুরের মাদারগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এক শিক্ষার্থী ও তাঁর সহপাঠীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তাঁরা। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থী রাফি আহমেদ বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটিতে বাড়িতে এসে তিনি নিজ এলাকায় মাদকের বিস্তার দেখতে পান। এরপর মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মাদকবিরোধী প্রচারণায় অংশ নেন তিনি।
রাফির দাবি, ওই প্রচারণার পর মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ মাদক সংশ্লিষ্টতায় চিহ্নিত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁরা জামিনে বের হয়ে এসে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাফি বলেন, চলতি আগস্ট মাসে ছুটিতে আবার বাড়িতে গেলে গত ২৩ আগস্ট মাদারগঞ্জ উপজেলার জোনাইল নয়াপাড়া গ্রামের সাঈদ, মনির ও সেলিম সরকারসহ কয়েকজন তাঁর ও তাঁর সহপাঠীদের ওপর হামলা চালান। এতে তিনি ও তাঁর কয়েকজন সহপাঠী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলার বিষয়টি পুলিশকে জানালে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে ওই দিনই মাদারগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিতে গেলে থানার সামনেও অভিযুক্তরা তাঁদের ওপর হামলা ও মারধর করেন বলে দাবি করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে রাফি আহমেদ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাঁদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ও তাঁর সহপাঠীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাফি। এ সময় হামলার শিকার মো. বিপুল, আব্দুল্লাহ আল মাহিম এবং রাফির বাবা মো. আসাদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত সাঈদ, মনির ও সেলিম সরকারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।