সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা তথ্য অফিস, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যবস্থাপনায় GPMS কর্মপরিকল্পনার আওতায় জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রথম প্রান্তিকের প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকালে আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর অরুণোদয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাস।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কলে যুক্ত হন গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপপরিচালক আ. কাইয়ুম এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) মো. মামুনুর রশিদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আবদুল জলিল সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও কৃষিভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির লক্ষ্য, সুবিধা এবং উপকারভোগী নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্থানীয়দের অবহিত করেন।
তিনি বলেন, হতদরিদ্র ও নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। সুবিধাভোগী নির্বাচনে স্থানীয় প্রশাসন, সমাজসেবা বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের কার্যক্রম চলছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের একটি ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা বীজ, সার, কৃষিঋণ, ভর্তুকিসহ বিভিন্ন সরকারি কৃষি সহায়তা সহজে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
উঠান বৈঠকে বক্তারা সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির সঠিক তথ্য জানার পাশাপাশি কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারি সেবা ও সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় নারী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে উপস্থিতদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করা হয়। পরে জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাসের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে উঠান বৈঠকের কার্যক্রম শেষ হয়।