ভোলার মনপুরায় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে একটি ড্রেজারসহ পাঁচজনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উপজেলার পূর্ব ও পশ্চিম পাশের মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান চালানো হয়।

কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্য কয়েকটি ড্রেজার ঘটনাস্থল থেকে সরে যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জব্দ করা ড্রেজারটির মালিক হিসেবে হানিফ মাঝির নাম জানিয়েছে কোস্টগার্ড। আটক ব্যক্তিরা হলেন—নয়া মিয়া, ইসমাইল, শুক্কুর মিয়া, হাসান ও কায়েস মোল্লা। তাঁদের সবার বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার লাকুরতলী গ্রামে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কোস্টগার্ড দক্ষিণ (ভোলা) জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ড্রেজারসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজাহারুল ইসলামও কোস্টগার্ডের অভিযানে ড্রেজার আটকের বিষয়টি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদীর উপকূলসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধও ঝুঁকিতে পড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই বছর ধরে তাঁরা বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।

মেঘনা নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীর ও বাঁধ ঝুঁকিতে পড়ার ঘটনা বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকাতেও দেখা গেছে। চলতি বছরের এপ্রিলে চাঁদপুরের হাইমচরে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ঘটনায় নদীতীর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়ার কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।

মনপুরার ঘটনায় কোস্টগার্ডের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, শুধু একটি অভিযান নয়, মেঘনার ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।

নদী, তীরবর্তী জনপদ ও বেড়িবাঁধ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা কতটা কার্যকরভাবে সম্ভব হবে, এখন নজর থাকবে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক নজরদারির ওপর।