ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদীর আশুগঞ্জ সীমানায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে একটি ড্রেজার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ড্রেজার পরিচালনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে মেঘনা নদীর আশুগঞ্জ অংশে আশুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরডাইয়া গ্রামের বাচ্চু তালুকদারের ছেলে মো. রাকিবুল (২২), ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দীঘলদি গ্রামের লোকমান মিয়ার ছেলে মো. সিরাজ (৪০) এবং নরসিংদীর রায়পুরা এলাকার গোলাপ মিয়ার ছেলে মো. দীন ইসলাম।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গুগল ম্যাপে প্রদর্শিত চর সোনারামপুর থেকে আনুমানিক ১ হাজার ২০০ মিটার পূর্ব দিকে এবং আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড (APSCL) কলোনি থেকে আনুমানিক ৬০০ মিটার উত্তর-পূর্ব দিকে মেঘনা নদীর একটি এলাকায় পাঁচটি ড্রেজারকে বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়। ওই স্থানটি ভৈরব-আশুগঞ্জ আন্তঃসীমানা রেখা থেকে আশুগঞ্জের দিকে প্রায় ১০০ মিটার ভেতরে বলে অভিযানে শনাক্ত করা হয়। পরে সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে গেলে অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে পাঁচটি ড্রেজারই ভৈরব সীমানার দিকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় অভিযান পরিচালনাকারীরা ড্রেজারগুলোকে ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে ‘এম বি মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ড্রেজারকে আশুগঞ্জ সীমানার ভেতরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনরত অবস্থায় জব্দ করা হয়।
অভিযানে ড্রেজারটির অপারেটর মো. রাকিবুল (২২)কে আটক করা হয়। নদীতে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে তাকে গুগল ম্যাপে অবস্থান দেখাতে বলা হলে তিনি জানান, তারা আশুগঞ্জ উপজেলার সীমানার ভেতরে অবস্থান করছেন। তিনি আরও জানান, তাদের নির্ধারিত বালুমহল থেকে ওই স্থান প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে।
আশুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, ইজারাকৃত বালুমহলের বাইরে গিয়ে আশুগঞ্জ অংশে বালু উত্তোলনের বিষয়টি এ অভিযানে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। পরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ড্রেজার পরিচালনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযানে জব্দ করা ড্রেজারটি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নৌ পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদীর আশুগঞ্জ অংশে ইজারার বাইরে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরবর্তী এলাকা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। বিশেষ করে চর সোনারামপুরসহ আশপাশের বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে দুইদিন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবরোধ করে ঝাড়ু মিছিল, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে এলাকাবাসী।