চাঁদপুর জেলার আটটি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। জেলার মোট ১ হাজার ১৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে ৬৪২টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে একজন সহকারী শিক্ষককে একই সঙ্গে প্রশাসনিক ও শিক্ষাদানের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রম, অফিস পরিচালনা, বিভিন্ন সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, শিক্ষকদের সমন্বয় এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তাদের সামলাতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষক সংকটের মধ্যেই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেককে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন প্রধান শিক্ষক শুধু বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধান নন; শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি তদারকি এবং বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পদটি দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অভিভাবকরা বলছেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে একসঙ্গে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিক্ষা কার্যক্রমের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা ইউনিয়নের রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাস নেওয়ায় পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগের দাবি জানান।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক মো. জাকির হোসেন বলেন, প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। একজন সহকারী শিক্ষককে একসঙ্গে প্রশাসনিক ও পাঠদানের দায়িত্ব পালন করতে হলে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি জানান, প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ইতোমধ্যে এসেছে। গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুত হওয়ার পর শূন্য পদগুলো পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকদের গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে শূন্য পদগুলো পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এসব পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।