মেহেরপুরে একটি যাত্রীবাহী লোকাল বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে অন্তত ১২ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ওয়াপদা মোড়ে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতদের উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সদর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে তাওহিদুর রহমান (৪০), একই গ্রামের মৃত আইয়ুব মল্লিকের ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম (৩৬), চাঁদবিল গ্রামের সিদ্দিক শেখের স্ত্রী রেনুয়ারা খাতুন (৫০), আশরাফপুর গ্রামের মিয়ারুল ইসলামের ছেলে মিলন (১৮), তারানগর গ্রামের পিন্টু হালসোনার স্ত্রী ববিতা খাতুন (৩৮) এবং তার মেয়ে প্রিয়া খাতুন (২০)। এছাড়া বাকি আহত যাত্রীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুষ্টিয়া-জ-০৪-০০৩২ নম্বরের একটি লোকাল যাত্রীবাহী বাস বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুর কলেজ মোড় থেকে যাত্রী নিয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাসটি মেহেরপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক হঠাৎ ইউ-টার্ন নিয়ে বাসের সামনে চলে আসে। একই সময়ে একটি ইজিবাইকও বাসটির সামনে পড়ে যায়। এ অবস্থায় সংঘর্ষ এড়াতে যেয়ে বাসচালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী খাদে উল্টে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে আটকে থাকা যাত্রীদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করে। প্রতিবাদের লেখার সময় পর্যন্ত (বিকাল সাড়ে চারটা) বাসটি ওই অবস্থাতেই রয়েছে। এখনো উদ্ধার করে টেনে তোলা হয়নিম
মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ন কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাসে থাকা যাত্রীদের উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। বর্তমানে খাদে পড়ে থাকা বাসটি উদ্ধারের কাজ চলছে।